ভরা মৌসুমেও চালের বাজারে অস্থিরতা


মে ৩১ ২০২২

বোরো ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও উল্টো চিত্র হিলির চাল বাজারে। অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। কয়েক ধাপে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৭-৮ টাকা। হঠাৎ চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। মিল মালিকদের কারসাজিতে দাম বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে সিন্ডিকেট করে চালের দাম কেউ বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর এ আলম। গতকাল সোমবার হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় পাইকারি চালের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তারপরও সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে সব ধরনের চালের। প্রতি কেজি আটাশ জাতের চাল কয়েক দিন আগেও ৪০-৪২ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৮ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ৫০ টাকা কেজির মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়, স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৩৭-৩৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৮ টাকা কেজি দরে এবং গুটিস্বর্ণা জাতের চাল কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে ৩৪ টাকার চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা কেজি দরে। হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা সোহেল রানা বলেন, ‘বাজারে সব চালের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম কেজিতে ৭-৮ টাকা বেড়েছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমাদের আয় কম, কিন্তু খরচ বেশি হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।’ মানিক নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়ছি। চাল মজুত করে রেখে কেউ দাম বাড়াচ্ছে কি না, সে বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখার অনুরোধ রইল। দাম কম হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’ হিলি বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী মনজুরুল ইসলাম শিপন বলেন, ‘হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে সব চালের দাম বেড়েছে। আমরা মিল মালিকদের কাছ থেকে কম চাল পাচ্ছি। পাশাপাশি তারা চালের দামও বেশি নিচ্ছে। এ কারণে বাজারে চালের দাম বাড়ছে। আমরা বেশি দামে চাল কিনছি ও দু-এক টাকা লাভে তা বিক্রি করছি। প্রকারভেদে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৭-৮ টাকা।’ হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর এ আলম বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চাল মজুত করে রেখে কেউ যদি দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে থাকি।’